যবিপ্রবির ২ শিক্ষার্থীকে আজীবন বহিষ্কার
শিক্ষক নিয়োগে বাধা প্রদান, ভিসির কার্যালয়ে তাণ্ডব, শৃঙ্খলা ভঙ্গ, অসাদাচরণ এবং র্যাগিংয়ে জড়িত থাকার অপরাধে ডিসিপ্লিনারি কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ২ জন শিক্ষার্থীকে আজীবনসহ ৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একইসঙ্গে কয়েকজন কর্মকর্তার সনদে অসামঞ্জস্য পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে আইন ও বিধি-মোতাবেক ব্যবস্থা নিতে একটি শক্তিশালী তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ ফ্রেরুয়ারি) যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) প্রশাসনিক ভবনের সম্মেলন কক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম রিজেন্ট বোর্ডের ৫৯তম সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
রিজেন্ট বোর্ডের সভায়, যবিপ্রবির ভিসির কার্যালয়ে বারবার তাণ্ডব চালানো, শিক্ষক নিয়োগে বাধা প্রদান, শৃঙ্খলা ভঙ্গ, অসাদাচরণ প্রমাণ হওয়ায় ডিসিপ্লিনারি কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী একরামুল কবীর দ্বীপ এবং শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী অন্তর দে শুভকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়।
একই অভিযোগে ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী হুমায়রা আজমিরা এরিন ও ইসমে আজম শুভকে দুই বছরের জন্য বহিষ্কার করা হলেও তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে এ আদেশ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তবে তারা যদি কোনো শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের এ শাস্তি কার্যকর হয়ে যাবে। এ ছাড়াও ঘটনায় জড়িত অন্য শিক্ষার্থীরা ক্ষমা চাওয়ায় তাদের মানবিক দিক বিবেচনায় ক্ষমা করে দেওয়া হয়।
রিজেন্ট বোর্ডের সভায়, র্যাগিংয়ে জড়িত থাকায় ডিসিপ্লিনারি কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রাকিবুল হাসান ও রায়হান উদ্দিনকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়। এ ছাড়া অন্যদের লঘুদণ্ডের অংশ হিসেবে সতর্ক নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
যবিপ্রবির ভিসি ও রিজেন্ট বোর্ডের সভাপতি প্রফেসর ড. মো: আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত সচিব) জাবেদ আহমেদ, যশোর আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. গোবিন্দ চন্দ্র বিশ্বাস।